একসঙ্গে পৃথিবী ছাড়লেন তারকা জমজ এলিস ও এলেন কেসলার

একসঙ্গে পৃথিবী ছাড়লেন তারকা জমজ এলিস ও এলেন কেসলার
এলিস কেসলার ও এলেন কেসলার। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

একসঙ্গে মারা গেছেন জার্মান যমজ বোন এলিস ও এলেন কেসলার। ১৯৫০-এর দশকে যারা বৈচিত্র্যময় বিনোদন জুটি হিসেবে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ৮৯ বছর বয়সে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার তাদের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে, জার্মান সোসাইটি ফর হিউম্যান ডাইং (ডিজিএইচএস)।

স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, মিউনিখের সবুজ ঘেরা শহরতলির যে বাড়িতে তারা বাস করতেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

ডিজিএইচএস সিএনএনকে জানিয়েছে, এই জমজরা এক বছরেরও বেশি আগে আইনজীবী এবং ডাক্তারদের মাধ্যমে ডিজিএইচএসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সদস্য হন।

ডিজিএইচএসের মুখপাত্র ভেগা ওয়েটজেল বলেন, ‘তারা সম্ভবত একই দিনে একসঙ্গে মৃত্যু চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিকল্পনা করছিলেন বলেও জানান ওয়েটজেল।

আরও পড়ুন

গত বছর ইতালির এক সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই বোন জানিয়েছিলেন যে, তারা জন্মের মতো পৃথিবী থেকেও একসঙ্গে বিদায় নিতে চান। দুজনের মধ্যে একজন আগে চলে যেতে পারে, এটি ভাবাও তাদের জন্য কঠিন।

জার্মানির শীর্ষ আদালতের ২০২০ সালের দেওয়া রায় অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির তার জীবন শেষ করার অধিকার রয়েছে। সেই সঙ্গে যদি কেউ কোনো বাহ্যিক চাপে প্রভাবিত না হন তাহলে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য তৃতীয় পক্ষের সাহায্যও চাইতে পারেন।

মূলত এরপর থেকেই জার্মানিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সাপেক্ষে এই ধরনের মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়।

সোনালী চুল, লম্বা পা এবং গান ও নাচ দুইয়েই দারুণ দক্ষতার কারণে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকের ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কেসলার বোনেরা।

শুরুটা হয়েছিল ছোটবেলায় ক্ল্যাসিকাল ব্যালে স্কুলে পড়ার সময়। এরপর নাচকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পর ১৯৫২ সালে পূর্ব জার্মানি থেকে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পরেই প্যারিসের ক্যাবারে পরিবেশনার জন্য পরিচিত স্থান লিডোতে কর্মজীবন শুরু করেন দুই বোন। তবে ক্যাবারে ড্যান্সার হিসেবে নিজেদের ধরে রাখেননি তারা। দ্রুত পৌঁছে যান বিনোদন জগতের শীর্ষে।

১৯৫৯ সালের ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করেন তারা। ‘দ্য অ্যাড সুলিভান শো’তেও অংশ নেন। একবার লাইফ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও স্থান পান দুই বোন।

ঝলমলে জীবন শেষ হয়েছিল আগেই। দুই বোন একসঙ্গেই বাস করতেন। একসঙ্গেই নিজেদের ইচ্ছায় পৃথিবী থেকে নিলেন, আর শেষবারের মতো হলেন খবরের শিরোনাম।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad