ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে শব্দ দূষণ এখন এক নিত্যদিনের দুর্ভোগ। যানবাহনের অযথা হর্ন, ট্রাফিক জটের চাপে অতিরিক্ত শব্দ এবং শহরের চারপাশে ক্রমাগত কোলাহল মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এই বাস্তবতায় একদিন বাংলাদেশকে হর্নমুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেছেন, ‘আইন প্রয়োগের মাধ্যমে একদিন আমরা হর্নমুক্ত বাংলাদেশ পাব বলে আশা করছি। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে এবং এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
মঙ্গলবার ঢাকায় হাইকোর্ট মাজার চত্বরে ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বিআরটিএ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সমন্বিত অভিযানে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশে ছিল হর্নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং নীরব এলাকাগুলোতে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় সকল উৎস থেকে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হর্নের দূষণ নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিধিমালায় বাংলাদেশ পুলিশকে সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রয়োগ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে এটা হয়নি। এবার থেকে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন শুরু হচ্ছে।’
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আশা প্রকাশ করেন, ধীরে ধীরে মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন আসবে। হর্ন বাজানো যেন একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি না থাকে, বরং মানুষ সচেতন হয়ে নিজ দায়িত্বে শব্দ দূষণ কমাবে–এটাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, আগামী ছয় মাসের জন্য নীরব এলাকা ঘোষিত অঞ্চলগুলোতে কীভাবে কাজ করা হবে, তার একটি বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে।
এই উদ্যোগে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ ও ডিএনসিসি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার। এ ছাড়া, উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শব্দ দূষণ শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই নীরব, শান্ত ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ।


