বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ভার্চ্যুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানোয় আটকে গেছে তার কারামুক্তি। বুধবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত দেখানো হয়। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এ নিয়ে তাকে নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে আটটি মামলায় জামিন পেলেও এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার কারামুক্তি আটকে গেছে।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসাইন বলেন, ‘খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর পর জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতে শুনানি হবে।’
এর আগে গত ২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সেদিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগার থেকে তাকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত করে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়েছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়িতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই বছরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ও বন্দর থানার দুই মামলায় তাকে ভার্চ্যুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই বছরের ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় দেওয়াসহ জাল রায় তৈরির অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷
গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় খায়রুল হককে।
পরবর্তীতে এই পাঁচ মামলায় এ বছরের ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। তবে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানার শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা ও আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আলাদা আবেদন করে। পরে গত ২০ মে এই দুই মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
তবে গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার খোবাইব হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল। গত ২৩ মে খায়রুল হকের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ৩০ জুন বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ তার জামিনের আদেশ দেয়। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত।
গ্রেপ্তার দেখানো মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালী সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করছিলেন। তারা সেখান থেকে শাহবাগ যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, ককটেল, হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জল মিয়াসহ ২৫/৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।


