উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬
Advertisement
Advertisement

ঢাকার উত্তরায় একটি সাততলা আবাসিক ভবনে লাগা আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে।

নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

শুক্রবার সকালে ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে ৭টা ৫৮ মিনিটে সেখানে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। উত্তরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় আধঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ১০টা নাগাদ আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

এ ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ।

নিহতরা হলেন, রোদেলা আক্তার (১৪), কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও তাদের ছোট ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এবং মো. হারিছ উদ্দিন  (৫২) ও তার ছেলে রাহাব (১৭)।

নিহতদের মধ্যে তিনজন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যান। অন্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও লুবানা হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন

আগুনে হতাহতদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: শামীম-উস-সালেহীন/টাইমস

নিহত আফরোজা আক্তারের মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ঔষধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত। আর তার স্ত্রী আফরোজা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান।

তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরাতে নানীর বাসায় থাকত। শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানীর বাসা থেকে এই বাসায় নিয়ে আসেন বাবা-মা। এরপর সকালে ওই বাসায়  আগুন লাগার খবর পান স্বজনরা।

আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, আফসানাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আফরোজাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তার শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত ছিল না, ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: শামীম-উস-সালেহীন/টাইমস

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া উইং জানিয়েছে, সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তোলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুন লাগার পরপরই ভবনটি থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উদ্ধারকাজে যুক্ত ফায়ার কর্মীরা জানান, আগুন সরাসরি ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে ঘন কালো ধোঁয়া পাঁচ ও ছয় তলার বাসিন্দাদের ঘিরে ফেলে, যার ফলে প্রাণহানি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘন ধোঁয়ার কারণে বাসিন্দারা নিচে নামতে বা ওপরে উঠতে পারেননি। ভবনের ভেতরের পরিবেশ এখনো অনিরাপদ বলে জানান আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সুমি আলম। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় তলা থেকে ওপরের দিকে কালো পোড়া দাগ রয়েছে এবং ভেতরে ঢোকা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।’

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই সব মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের কয়েকজনের জানাজা বিকালে উত্তরা বড় মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার পেছনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কিংবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ধারণা করা হলেও আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ঘটনার পর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ক্রাইম ইউনিটসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনটি পরিদর্শন করেছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর