আর মাত্র দুসপ্তাহ পরে ঈদুল আযহা। পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি অপেক্ষা করছে ঈদের ছবির জন্য। এবারের ঈদে মুক্তির জন্য বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা দিয়েছিলো ১০টির মতো ছবি। এর মধ্যে শেষ পর্যন্ত আসতে পারে ৬-৭টি। তবে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় পরিবেশকরা বলছেন এ সংখ্যা কমে ৪-এ নামতে পারে।
জানা গেছে, এ মুহূর্ত পর্যন্ত মুক্তির জন্য জোরেশোরে চেষ্টা চালাচ্ছে ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘নাকফুলের কাব্য’। এছাড়া এ চেষ্টায় যুক্ত রয়েছে ‘মাসুদ রানা’, ‘পিনিক’, ‘মালিক’ ও ‘অফিসার’।
ঈদের সিনেমার মধ্যে পূর্ণোদ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে ‘রকস্টার’ ও ‘রইদ’। শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা আছেন শাকিবের বিপরীতে। ইতোমধ্যে ক্রিকেট মাঠে প্রচারণাসহ এর টিজার, পোস্টার, গান প্রকাশিত হয়েছে। পরিচালক রুশো জানালেন, আগামী সপ্তাহে সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডে ছবি জমা পড়বে।
‘হাওয়া’র পর ‘রইদ’ নিয়ে আসছেন মেজবাউর রহমান সুমন। ছবিটির টিজার, পোস্টার ও দুটি গান প্রকাশিত হয়েছে। এসবে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষির লুক ও অভিনয় সবার নজর কেড়েছে। ১৭মে থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে প্রচারণা শুরু করবে। তারাও আগামী সপ্তাহে সেন্সরে যাবার পরিকল্পনা।
শুটিং শেষ করতে না পারায় গেল ঈদে মুক্তি পায়নি ‘মালিক’। সাইফ চন্দন পরিচালিত ছবিটিতে আরিফিন শুভর বিপরীতে আছেন মীম। ছবিটির ঈদে আসা নিয়ে নিশ্চিত করতে পারলেন না পরিচালক। তিনি বলেন, ‘পোস্টের কাজটা আরেকটু গুছিয়ে নিতে চাইছি। এ জন্য হয়তো আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তারপরই সিদ্ধান্ত, ফাইনালি ঈদে আসবে কি না।’
সৈকত নাসিরের পরিচালনায় ‘মাসুদ রানা’ প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। তিনি জানিয়েছেন ২০ মের মধ্যে ছবিটি সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়া হবে ছাড়পত্রের জন্য। ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা ও পূজা চেরী।
আদর আজাদ ও বুবলী অভিনীত ‘পিনিক’ গেল কয়েক ঈদে আসি আসি করেও আসছে না। এবারও এখন পর্যন্ত কোনো প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। এর পরিচালক জাহিদ জুয়েল স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনভাবেই সিনেমাটির মুক্তি থেকে সরে যাচ্ছি না।’ দু-একের মধ্যে তারা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন বলেও জানান পরিচালক।
৯৭ শতাংশ শুটিং শেষ করেও ‘বিদায়’ নিয়ে অনিশ্চিয়তা কাটেনি। এর অন্যতম প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি জানালেন, তাদের ঈদে আসার সম্ভাবনা খুব কম। তারা পূজায় আসবেন। আবার এর পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় ঈদে আসার ব্যাপারে খুব আশাবাদী। মূলত এর কিছু দৃশ্য মালয়েশিয়ায় হওয়ার কথা রয়েছে। এখনো ভিসা জটিলতাসহ নানাবিধ কারণে সে অংশের শুটিং করা যায়নি। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পারাজ, প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, ফারুক আহমেদ।
বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘নাকফুলের কাব্য’র অবশ্য আগেই সেন্সর ছাড়পত্র হাতে পেয়েছে। এটি পরিচালনা করছেন আলোক হাসান। তিনি বলেন, ‘সিনেমাটি ঈদে আসবে নিশ্চিত। সেভাবেই সব কাজ এগিয়ে চলেছে। সিনেমার তিনটি গানের একটি এ সপ্তাহে মুক্তি দেব। পরে ট্রেলার, টিজার আসবে।’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আদর আজাদ ও পূজা চেরী জুটি।
সরকারি অনুদানে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নির্মাণ করেছেন ‘বনলতা সেন’। ছবিটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। সিনেমায় কবি জীবনানন্দ দাশ হয়েছেন খায়রুল বাসার। গত বছর মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটি। কিন্তু এ ঈদে আনা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি বলে জানান পরিচালক উজ্জ্বল।
এ ছবিগুলো ছাড়া পূর্বে ঘোষণা দেওয়া ‘হাঙর’, ‘দুর্বার’, ‘অফিসার’, ‘তছনছ’, ‘শিরোনাম’-এর মধ্যে একমাত্র ‘অফিসার’ ঈদে মুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে কোনো পরিবেশক তাদের ছবিটি এ মুহূর্তে মুক্তি দিতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানা গেছে।


