রমজান শেষে আসছে খুশির ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরে পর্যটন রাজধানীখ্যাত কক্সবাজারে চলছে পর্যটকদের স্বাগত জানানোর ব্যাপক প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্টদের আশা, এবারের ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন পর্যটন স্পট পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদে টানা ৭ দিন সহ প্রায় ১১ দিনের ছুটি থাকায় দেশীয় পর্যটকদের বড় অংশ ছুটি কাটাতে কক্সবাজারকে বেছে নিতে পারেন। তাদের ধারণা, এই সময়টিতে কক্সবাজারে ৫ থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।
ইতিমধ্যে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের আবাসিক হোটেলে অগ্রিম রুম বুকিং দিয়েছেন পর্যটকরা। তারকামানের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ঈদের দিন থেকে টানা সাত দিন কোনো রুম খালি নেই। মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে কিছু রুম খালি থাকলেও তা ব্যবসায়ীরা অতিমুনাফা লাভের আশায় ‘রুম নাই’ পলিসি অবলম্বন করছেন। তাদের মতে, ঈদের প্রথম তিন দিন ২২,২৩ ও ২৪ মার্চ কক্সবাজারের ৫ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস এবং রিসোর্ট প্রায় পুরোপুরি অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে অনেকেই এই সময়টিকে ভ্রমণের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কোথাও চলছে রং করা, কোথাও মেরামত কাজ, আবার কোথাও করা হচ্ছে আলোকসজ্জা। ব্যবসায়ীদের মতে, কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা যেন সেবায় মুগ্ধ হন, সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল হিলভিউর ম্যানেজিং পার্টনার রহমত উল্লাহ জানান, তাদের হোটেলে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ মার্চের জন্য আগাম বুকিং রয়েছে। বর্তমানে হোটেলের মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।
তারকা মানের আবাসিক হোটেল কক্স টুডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু তালেব বলেন, ‘আমাদের হোটেলে দুই শতাধিক রুম রয়েছে। রমজানের এই সময়ে হোটেলকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। ঈদের আগেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রথম তিনদিনের জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে।’
আরেক তারকা মানের হোটেল সায়মান রিসোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোলার আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এখন আমাদের হোটেল রেনুভেশনের কাজ চলছে। এসব কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের হোটেলে ঈদের পর টানা ৫-৬ দিন সম্পূর্ণ অগ্রিম বুকিং রয়েছে। তিনি আশা করছেন, এবার ঈদের ছুটিতে প্রচুর পর্যটক আসবেন কক্সবাজারে।’
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টরের আবাসিকে প্রতিদিন এক লাখ ২০ হাজার মানুষ থাকার সক্ষমতা রয়েছে। আশা করছি, এবারের প্রায় ১১ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন লাখেরও বেশি মানুষ কক্সবাজার আসবেন।’ কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদারও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল মালিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের কাছ থেকে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়, সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। হোটেল মালিকদেরও এই বিষয়ে বলে দেওয়া হয়েছে।’
কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটগুলো ও শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে। পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিনের ছুটি মিললেই কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামে। সেখানে এবার ঈদে ছুটি মিলেছে ৭ দিন। বেসরকারি চাকরিজীবীরা ঈদের পরে আরও দুদিন ছুটি নিলে তাদের ছুটি দাঁড়াবে ১১ দিন। তাই কক্সবাজার শহর ও পর্যটন স্পটগুলোতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


