জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিএনপির চাপে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে। অবিলম্বে ইসি নিরপেক্ষ অবস্থানে ফিরে না এলে এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোট রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি কি তাহলে ইসিকে চাপ দিয়ে আবারও একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চান? ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের সংসদে পাঠাতে চান? এটা কি তার পরিকল্পনা? গত তিন নির্বাচনের মতো এবারও যদি এ ধরনের নির্বাচনের চেষ্টা করা হয়, দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’
গত দুই দিন ছাত্রদল ইসির সামনে মব সৃষ্টি করছে–এমন অভিযোগ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘চাপ প্রয়োগ করে যদি ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বাঁচানো হয়, তাহলে আমরা মাঠে নামব। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনের বাইরে রাখার দাবিতে আমরা রাজপথে নামব।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে আমাদের শোকজ করা হচ্ছে। অথচ সারা ঢাকা শহরে তারেক রহমানের ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হলেও ইসি নির্বিকার।’
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেন, ‘৩১ জন ঋণখেলাপি এবং সমসংখ্যক দ্বৈত নাগরিকের মনোনয়ন বৈধ দেওয়া হয়েছে। তাদের বেশিরভাগ বিএনপির। এটা মানা হবে না। আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব এবং প্রয়োজনে রাজপথে নামব।’
তিনি বলেন, ‘গত দুই দিনের ঘটনাবলি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। প্রধান উপদেষ্টা সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচনের কথা বললেও তার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে—এ কথাও আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমরা সব স্টেকহোল্ডার ও সব দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাব। অন্যথায় কেউ বসে থাকবে না। ইসির বোঝা উচিত, কিছুদিন আগে এখানে ইসির কর্মকর্তাদের পাতানো নির্বাচনের দায়ে মানুষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে।’
এর আগে বিকাল পাঁচটার দিকে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।


