সংসদ নির্বাচনে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে সব মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এরইমধ্যে ৫১টি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিভাগীয় দপ্তর এবং বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনার পর প্রতিটি মন্ত্রণালয় এখন তাদের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে।
সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারকে দেশ পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ ইশতেহারের ওপর আস্থা রেখেই ব্যালটের মাধ্যমে রায় দিয়েছে। তাই জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে একাধিক সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইশতেহারে উল্লিখিত প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ খাতের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে ইশতেহারে উল্লিখিত এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সরকার কী করতে চায় এবং ইশতেহারের কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য মন্ত্রিসভার সদস্য ও সচিবদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা যেন প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


