জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় দিনের বৈঠকেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।
বুধবারের আলোচনায় অংশ নেয় বিএনপি, এনসিপি, গণফোরাম, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, জাসদ, বাসদসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল। এ আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলও অংশ নেয়, যদিও মঙ্গলবার তারা অংশ নেয়নি।
এদিনের বৈঠকে তিনটি বিষয় নির্ধারিত থাকলেও সময় কম থাকায় আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল দুটি–জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি)’ ও ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন’—বিষয়ে । ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’নিয়ে আলোচনা আর এগোয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব আমরা সমর্থন করি না। এটি রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। আমরা মনে করি, বিদ্যমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করে সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মত দিয়েছে, কমিশনের প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি ‘বেসিক ডেমোক্রেসির’ পুনরাবৃত্তি।
রাষ্ট্রপতির নির্বাচন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে হওয়া উচিত, যোগ করেন তিনি।
এনসিপির এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এনসিসি গঠনের পক্ষে। তবে তিন বাহিনীর প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ সুপারিশ যেন এনসিসির আওতায় না আসে, সে বিষয়ে আমাদের মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কমিশনের প্রস্তাবকে আমরা সমর্থন করি।’
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের বলেন, ‘আমরা এনসিসি গঠনের পক্ষে, তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে এর সদস্য হিসেবে না রাখার পক্ষে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছি।’
এদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা নীতিগতভাবে এনসিসির পক্ষে। তবে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে রাখা যেতে পারে।’
এদিকে, ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘এনসিসি গঠনের মাধ্যমে সরকারের মধ্যে আরেকটি সরকার সৃষ্টি হবে। আমরা এর বিপক্ষে।’
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এনসিসি জরুরি না, তবে প্রয়োজনীয় হতে পারে। আগে একটি অবাধ নির্বাচন হোক, তারপর সংসদ এনসিসি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক।’
আলোচনা শেষে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা এখনো সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আলোচনা চলবে বৃহস্পতিবার ও রোববার পর্যন্ত। আমরা আশা করছি পর্যাপ্ত আলোচনা হলে আমরা একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।’
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফররাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার ও ইফতেখারুজ্জামান।


