তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ

তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ
রাজধানীর অর্ধেক লোডশেডিংয়ের কবলে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীতে এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের সমস্যা থেকে অনেকটা স্বস্তিতে থাকলেও সারা দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। তবে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট তাতে কমেনি। রিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকদের প্রখর রোদে পুড়ে কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় রিকশাচালকরা যাত্রী সংকটেও পড়েছেন।

ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকার রিকশাচালক রতন মিয়া (৬০) জানান, গরমের কারণে যাত্রী কম থাকায় আয় কমে গেছে, আবার রাতে গরমে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না।

কলাবাগানের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘তীব্র গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও পটুয়াখালী ছাড়াও গোটা খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবার অধিদপ্তরের তাপমাত্রা মাপার যে পারদ, সেটার তথ্য আর গরমের অনুভূতির হিসাব সমান থাকে না।

যেমন, অধিদপ্তরের হিসাবে শুক্রবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গুগল, অ্যাকুওয়েদারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাপমাত্রার ‘ফিলস লাইক’-এর যে হিসাব দেয়, তাতে দেখা গেছে, বিকাল ৫টায় তেজগাঁও এলাকায় গরমের অনুভূতি ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের মতো।

আবহাওয়াবিদরা বলেন, ‘দূষণ, সবুজের অভাবসহ নানা কারণে অধিদপ্তরের হিসাবের চেয়ে তাপমাত্রার অনুভূতি বেশি হতে পারে।’ অধিদপ্তরের হিসাবে শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন

দুশ্চিন্তায় কৃষক

তীব্র গরমে বোরো ধানের খেত এখন পানির অপেক্ষায়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে বৈদ্যুতিক পাম্প চালানো যাচ্ছে না ঠিকমতো। বিকল্প হিসেবে ডিজেলে সেচ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে জ্বালানি সংকটের কারণে।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৫ নম্বর চরের কৃষক শফিকুল ইসলাম পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তিনি সেচ দেন ডিজেলের পাম্পে। কিন্তু গত দুই মাস ধরে তেলের সংকটে খেতে পর্যাপ্ত পানি দিতে পারছেন না।

তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘তেল ঠিকমতো পাওয়া যায় না। একদিন পাই, আরেকদিন পাই না। এভাবে চাষাবাদ করা খুব কঠিন হয়ে গেছে।’

স্বস্তির আভাস

তবে দীর্ঘ দাবদাহের পর আবহাওয়া অধিদপ্তর কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি কমে আসবে এবং বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাতের ফলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ দেশের আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিসহ বৃষ্টি হতে পারে, যদিও দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। সোমবার থেকে দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় বৃষ্টিপাত ছড়িয়ে পড়বে এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।

মল্লিক জানান, আগামী ৯৬ ঘণ্টার জন্য ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং এই বৃষ্টিপাত চার দিনের বেশি সময়ও স্থায়ী হতে পারে, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে। এতে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad