গ্রামীণ সংস্কৃতিই দেশের মূল পরিচয়—এমন মন্তব্য করে তা সংরক্ষণ ও বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, অপসংস্কৃতির বিস্তার ঠেকাতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ আয়োজনকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
শুক্রবার বিকালে লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী আনন্দ উৎসব ও মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, “আমাদের শিকড় হচ্ছে এই গ্রামীণ সংস্কৃতি। এটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। ভবিষ্যতে এসব গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, যেখানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় শতাধিক সওয়ারি অংশ নেন। দর্শকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নওগাঁর আলোচিত ক্ষুদে সওয়ারি হালিমা বেগম, যিনি গতবারের মতো এবারও নৈপুণ্য দেখিয়ে সবার মন জয় করেন।
মূল আয়োজনের আগে মাঠজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা খেলাধুলা। এর মধ্যে ছিল উটকুন দিয়ে দড়ি পাকানো, চকর চাল, মেয়েদের কিতকিত, ধীরগতির দড়ি খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, বাটুল ছোড়া, গোচা খেলা ও চেংকু পেন্টিসহ বিভিন্ন আয়োজন। এতে উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, আর বিলুপ্তপ্রায় এসব খেলা দেখে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন স্থানীয় প্রবীণরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর সহধর্মিণী লায়লা হাবিব, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, জেলা প্রশাসক মু. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উৎসবের প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


