চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দী ও স্বজনের কথোপকথন সহজের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দী ও স্বজনের কথোপকথন সহজের উদ্যোগ
Advertisement
Advertisement

কারাবন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সহজ করতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চালু হয়েছে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ ইন্টারকম টেলিফোন ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সাধারণত বাংলাদেশের কারাগারগুলোয় স্বজনরা বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে নির্ধারিত কক্ষে লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলতে হয়।

এই পুরোনো পদ্ধতি বদলে নতুন ইন্টারকম ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনছে কারা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বন্দী ও তাদের স্বজনরা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে ও স্পষ্টভাবে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

বেসরকারি কারা পরিদর্শক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

এ উদ্যোগে অর্থায়ন করেছে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন (আশ ফাউন্ডেশন)।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বন্দী থাকার কারণে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়। একসঙ্গে অনেক মানুষ কথা বলায় কেউ কারও কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পারেন না, যা বন্দী ও স্বজন উভয়ের জন্যই কষ্টকর।

তিনি বলেন, ‘এই সমস্যা লাঘবে প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেট স্থাপন করা হয়েছে। এতে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দীদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দীদের জন্য ৪টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বেসরকারি কারা পরিদর্শক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের বিদ্যমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত অমানবিক ছিল। লোহার জালের দুই পাশে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হতো এবং চারপাশের তীব্র কোলাহলের কারণে অনেক সময় কেউ কারও কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পারতেন না।

মাসে মাত্র দুইবার ৩০ মিনিট করে সাক্ষাতের সুযোগ থাকলেও এই পরিস্থিতির কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

তিনি বলেন, নতুন এই ইন্টারকম ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দী ও তাদের স্বজনরা এখন আরও সুবিধাজনক ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবেন।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad