ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি যুদ্ধক্ষমতা (ওয়ার পাওয়ার্স) প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। এর আগে জুন মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদেও এটি পাস হয়েছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা যুদ্ধ ঘোষণার বাইরে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আসন্ন হামলার আশঙ্কা থাকলে সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
যদিও প্রস্তাবটি উভয় কক্ষেই পাস হয়েছে, তবু এটি আইন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এর কার্যকারিতা মূলত রাজনৈতিক ও প্রতীকী বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিনেটে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের ইরান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বিশৃঙ্খলা, ব্যয়বহুল সংঘাত এবং কূটনৈতিক সংকটে ঠেলে দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও ২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব হামলা ছিল অপ্ররোচিত এবং তা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সেই সমঝোতা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ অবস্থায় রিপাবলিকানদের একটি অংশ মনে করছে, সিনেটের এ প্রস্তাব আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ বলেন, ‘এমন বার্তা গেলে ইরান আলোচনার টেবিল ছেড়ে উঠে যেতে পারে’। তার ভাষায়, কংগ্রেস যদি প্রেসিডেন্টের হাত বেঁধে দেয়, তাহলে তেহরান এটিকে নিজেদের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে দেখবে।
তবে প্রস্তাবটির পক্ষে থাকা আইনপ্রণেতারা বলছেন, যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, যুদ্ধের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির হাতে না রেখে আইনসভাকেই সেই দায়িত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও ট্রাম্পের বিপক্ষে যাচ্ছে। রয়টার্স-ইপসসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুদ্ধের খরচ ও ক্ষতির তুলনায় এর ফলাফল সার্থক হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। একই সঙ্গে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও ভোটারদের চাপের মুখে পড়েছেন।
প্রস্তাবটি আইন না হলেও ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে কংগ্রেসে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।


