ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। বাংলাদেশের জন্য ‘নতুন আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ’ নিয়ে এ আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আর্থিক প্যাকেজের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে আইএমএফ কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতুন একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-সমর্থিত কর্মসূচির অনুরোধ জানিয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
গত মার্চে সরকারের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের চাহিদা মেটাতে সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে। সে কারণে জ্বালানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ৫৫০ কোটি ডলারের সহায়তা কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন এই ঋণচুক্তি করতে চায় সরকার। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া বিদ্যমান প্যাকেজের মেয়াদ চার বছর।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচিটি এমন এক সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যা এখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গত সপ্তাহে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে নতুন প্যাকেজের বিষয়ে তিনি অনুরোধ জানান।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন একটি কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও বাড়তি জ্বালানি আমদানি চাপ মোকাবিলায় এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।


