সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আরজিসি) সদস্যদের মোতায়েন করেছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। যেকোনো মূল্যে ইরানের শাসনব্যবস্থা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী।
ইরানি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএনএ-এর বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ১৫ জন নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। প্রায় দুই হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ দমনে শুক্রবার থেকে ইরান জুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শনিবার ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করে।
এর ফলে ইরানের সহিংসতার পূর্ণচিত্র পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লেও অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে উত্তরের রাশত, উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ এবং দক্ষিণের শিরাজ ও কেরমানে নতুন বিক্ষোভ দেখা গেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবার রাতে রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে কারাজে একটি পৌর ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করা হয়।
বিভিন্ন ভিডিওতে বিক্ষভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’, ‘খামেনির মৃত্যু হোক’ বলেও স্লোগান দিচ্ছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এখন তারা স্বাধীনতা চায়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’
দেশজুড়ে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুতই তা রাজনৈতিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়া আয়তুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করেন।
গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ আরও উস্কে দেন ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স ও শেষ রাজা মোহাম্মদ শাহ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি। তিনি বিক্ষোভরত জনগণকে শুক্রবার ও শনিবার রাতে সব দোকানপাট, বাজার বন্ধ রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


