গত বছরের জানুয়ারিতে তাহসানের সঙ্গে রোজা আহমেদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। চার মাসের পরিচয়ে গত বছরের ৪ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন। এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর শোবিজ অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের সংসারের বছর না পেরোতেই আবার আলোড়ন।
পারিবারিকভাবে রোজার সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় সবাই ভেবেছিল আগের সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে তাহসান হয়ত একটি স্থির দাম্পত্য সম্পর্কের পথে হাঁটছেন। কিন্তু সে পথে আর হাঁটা হয়নি। গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রোজার সঙ্গে তিনি আলাদা থাকছেন। বিবাহ বিচ্ছেদ এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
জানা যায়, গত জুলাই থেকেই আলাদা থাকছেন দুজন। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদের দিকে এগোচ্ছেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহসান নিজেই গণমাধ্যমকে বলেন, তারা আর একসঙ্গে নেই। তবে বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্যমতে, শুরুতে এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হলেও একসময় মতের অমিল প্রকট হয়ে ওঠে। কাউকে দোষারোপ না করে, পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন দুজনই। জানা গেছে, গেল বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সম্পর্ক জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও ওই মহলের দাবি।
কারণ প্রকাশ্যে না আসায় স্বাভাবিকভাবেই নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। শোবিজ সূত্র ও ঘনিষ্ঠ মহলের কথাবার্তায় কয়েকটি বিষয় বারবার উঠে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জীবনযাপন ও জীবনদর্শনের পার্থক্য। তাহসান চেয়েছিলেন তুলনামূলক নিরিবিলি, পরিবারকেন্দ্রিক একটি জীবন। কাজের বাইরে ব্যক্তিগত পরিসরকে গুরুত্ব দিতে আগ্রহী ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে রোজা একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্ততা। নিউইয়র্কে তার মেকআপ ব্যবসা রয়েছে। কাজের ধরন, জীবনধারা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তার অবস্থান ছিল আলাদা। এই ভিন্ন বাস্তবতা দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল—এমন ধারণা অনেকের।
বয়সের পার্থক্যও আলোচনায় এসেছে। দুজনের মধ্যে প্রায় ১২ বছরের ব্যবধান রয়েছে। প্রেমের শুরুর সময় এই বিষয়টি তেমন চোখে না পড়লেও, দাম্পত্য জীবনের বাস্তবতায় চিন্তাভাবনা ও প্রত্যাশার ফারাক স্পষ্ট হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত গুঞ্জন ঘুরে বেড়িয়েছে তাহসানের প্রথম সংসারকে ঘিরে। কন্যা আইরা এবং সাবেক স্ত্রী মিথিলার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে রোজার আপত্তি ছিল—এমন কথা শোনা গেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে বিষয়টি অনুমানের পর্যায়েই রয়ে গেছে।
এর বাইরে কাজের চাপ, নিয়মিত ভ্রমণ এবং সময়ের অভাব সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছিল বলেও আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নজরদারি ও বিশ্লেষণ রোজার জন্য মানসিক চাপ তৈরি করেছিল—এমন কথাও উঠে এসেছে।
তাহসানের প্রথম বিয়েও দীর্ঘ সময় পর ভেঙেছিল। তাই দ্বিতীয় বিয়ের এমন পরিণতি অনেকের মনে প্রশ্ন তুলছে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো জনসমক্ষে আসবে না।
যা স্পষ্ট, তা হলো—এই বিচ্ছেদ কোনো হঠাৎ নাটকীয় ঘটনায় হয়নি। এটি ছিল ধীরে তৈরি হওয়া দূরত্ব, প্রত্যাশার অমিল এবং বাস্তব জীবনের চাপের ফল। আলোয় ভরা তারকাজীবনের আড়ালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যে কতটা কঠিন, তাহসান–রোজার গল্প আবারও সেই বাস্তবতাই মনে করিয়ে দেয়।


