বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ ও যাত্রীবান্ধব নতুন বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই নতুন বিধিমালাটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপযোগী হতে হবে।
এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা প্রণয়নে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় Irrevocable Deregistration and Export Request Authorization (IDERA) সংক্রান্ত বিধি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়ার আয়োজনের নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।


