আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা সভা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রতি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রচারণা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসান লাবীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান।
খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, ‘গণভোট কী, তা আপনারা জানেন এবং কেন “হ্যাঁ” ভোট জয়যুক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেটাও জানেন। কিছু মানুষ ও মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে “হ্যাঁ” ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, নতুন কিছু চায়। তারই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার ঐক্যমত কমিশন গঠন করে এবং সেখানে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। যার ফলে অন্তর্বর্তী সরকারকে নতুন করে গণভোটের আয়োজন করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার চায়। সেই জায়গা থেকে আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো। যারা হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশের মানুষ জয়ী হবে এবং “হ্যাঁ” ভোট জয়যুক্ত হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের মধ্যে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশে সারা দেশ ভ্রমণ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি এবং সেখান থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভূমিতে সাধারণ ছাত্রদের আহ্বান জানাই–১২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যেন “হ্যাঁ” ভোট জয়যুক্ত হয়–এই আমানত আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। পাশাপাশি এই ক্যাম্পাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্র সাজিদ আবদুল্লাহ নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। একজন ছাত্র, আমাদের ভাই; তার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। এই দুটি দাবি আমরা আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।’


