সারা দিন রোজা থাকার পর মানুষ ইফতার ও সেহরিতে যেসব ফল-ফলাদি ও সবজি খেতে কিছুটা আরাম বোধ করেন, সেসব পণ্যের দাম যেনো আকাশ ছুঁয়েছে। বিশেষ করে লেবু, শসা, পেঁপে, পুদিনা পাতা, খেজুর, কলা ও চিকন লম্বা বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে চারগুণ পর্যন্ত।
রমজানের প্রথম দিন রাজধানীর কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল কাঁচা বাজার, রায়ের বাজার ও বেড়িবাঁধ এলাকার বাজার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্রব্যমূল্য এত বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলেছেন, ‘শখের তোলা ৮০
টাকা’।
রমজানের শুরুতে ইফতার ও সেহেরির জন্য বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে মানুষের যে আগ্রহ থাকে, সেটিকে শখ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ কয়েকটি রোজার পর থেকে মানুষের এই আগ্রহ কমে যায়, ফলে এসব পণ্যের দামও কমতে শুরু করে।
বৃহস্পতিবার বিকালে হাতিরপুল কাঁচা বাজার থেকে ১২০ টাকা দরে বড় লেবুর হালি এবং ১০০ টাকা কেজি দরে পুদিনা পাতা কিনেছেন রাশেদ হাফিজ। প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যক্তির কাছে পুদিনা পাতার দাম জানতে চাইলে হেসে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও ৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছি, আজ নিলাম ১০০ টাকা দরে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত সপ্তাহেও ২০ থেকে ৩০ টাকা হালি দরে লেবু কিনেছি। কিন্তু গতকাল থেকে লেবু আকার ভেদে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
ইফতারের কিছুক্ষণ আগে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারী বাজার কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো সাইজের পাকা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে এবং মাঝারি সাইজের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহে একই সাইজের পেঁপের কেজি ছিল দোকানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং তরমুজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

ভালো শসার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি দরের শসা প্রথম রোজার দিন বিকালে কারওয়ানবাজারে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। গোল বেগুনের কেজি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে এবং লম্বা-চিকন বেগুনের দাম ৬০ টাকা থেকে একলাফে ১২০ টাকায় উঠে গেছে। টমেটো ও ফুলকপির দামও কমপক্ষে ১০ টাকা করে বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও বড়াই খেজুরের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮০ টাকা ও কলমি খেজুর ৫৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এর কমেও কিছু খেজুর পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো খুবই নিম্নমানের। বাধ্য হয়ে নিম্ন আয়ের মানুষরা সেসব খেজুরও দেদারসে কিনছেন। দোকান ভেদে এসব সাধারণ মানের খেজুরের দাম বেড়েছে ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। এছাড়াও ভালো মানের কমলা, মাল্টা আপেলের দামও এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। এমনকি ৩০ টাকা হালির শবরী কলাও বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি দরে।
তবে দাম বাড়লেও বেচা-কেনা কমেনি বলে জানান সবজি বিক্রেতা এন্তাজ আলী। তিনি বলেন, ‘রোজার প্রথম তিন-চার দিন চাহিদা বেশি থাকে। এরপর ধীরে ধীরে দাম কমে যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘১৮০ থেকে ২০০ টাকা পাল্লা (৫ কেজিতে এক পাল্লা) নতুন পেঁয়াজ বেচতেছিলাম, গত কয়েকদিন থেকে পেঁয়াজের পাল্লাও ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করতেছি।’

দাম বাড়ার কারণে বেচাকেনা কমেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘দেখতেছেন না- কী অবস্থা’- ভীড়ের দিকে ইশারা করে বেচাকেনা বাড়ার কথা জানান তিনি। দাম বাড়লেও বেচাকেনা বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বছরে একবার রোজা আসে। ইফতার-সেহেরির জন্য কেনাকাটা করা মানুষের শখ। শখের তোলা আশি টাকা (একটি প্রবাদ শোনান তিনি)!’
মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকা ও রায়েরবাজারেও কিছু পণ্যের দাম আরো বেশি। এসব জায়গায় পেঁয়াজ ও টমেটো ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এমনকি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা ও সোনালী মুরগী ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা। কেজিপ্রতি এসব পণ্যে অন্তত ২০ থেকে টাকা বেড়েছে।
রায়ের বাজারের সবজি বিক্রেতা মমিন মণ্ডল বলেন, ‘পাইকারী বাজারে দাম বাড়লে আমাদের কিছু করার থাকে না। রমজানের শুরুতে ইফতার ও সেহেরির জন্য বাজার করার প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে। তাই প্রতিবারই দাম বাড়ে। কয়েকদিন পর মানুষের আগ্রহ কমে যাবে। তখন দামও কমে যাবে।’


