ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত অন্তত ২৫

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত অন্তত ২৫
ইউক্রেনের খারকিভে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনে আগুন নেভাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: ইউএনবি/এপি
Advertisement
Advertisement

রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পশ্চিম ইউক্রেনে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। দেশটির তেরনোপিল শহরে ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। মৃত্যুসংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ।

বুধবার ভোরে এই হামলার পর পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার আকাশে দ্রুত উড্ডয়ন করে ন্যাটো যুদ্ধবিমান।

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন শনাক্ত হলে প্রথমে ন্যাটোর ইউরোফাইটার এবং পরে রোমানিয়ার দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে। অন্যদিকে পোল্যান্ডও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমান আকাশে ওঠে।

তেরনোপিলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ধসে পড়া ভবন থেকে এখনো ধোঁয়া উড়ছে।

পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভেও ড্রোন আঘাতে বহু মানুষ আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, পুড়ে যায় রাস্তায় থাকা বহু গাড়ি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কে পৌঁছান। সেখানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে তার বৈঠকের লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের উদ্যোগে নতুন গতি আনা। তবে এসব আলোচনায় রাশিয়া অংশ নেয়নি।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, মঙ্গলবার নিজেদের সীমান্তের ভেতরে মার্কিন তৈরি চারটি এটিএসিএমএস দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভোরোনেজ শহরের আকাশে ভূপাতিত করেছে। ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা গেছে বলেও জানায় মস্কো।

রুশ হামলায় বুধবার ইউক্রেনের বহু অঞ্চল বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। সামরিক উড্ডয়ন নির্বিঘ্ন রাখতে পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেশুফ ও লুবলিন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার নির্দেশে কাজ করা দুই ইউক্রেনীয় নাগরিক একটি গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন ধ্বংস করেছে। মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আধুনিকায়নে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সরঞ্জাম বিক্রি অনুমোদন করে।

এ সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স সফরে জেলেনস্কি ‘১০০টি পর্যন্ত’ রাফালে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন কেনার একটি বড় চুক্তিও সম্পন্ন করেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ন্যাটো সদস্যদেশগুলো সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন বা যুদ্ধবিমান দেখা গেলে বারবার যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে। পোল্যান্ড বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে ভূপাতিত করে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর যা ন্যাটোর প্রথম এ ধরনের অভিযান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad