কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টাঙানো জাতীয় পতাকা ও দলীয় ব্যানার আবারও সরিয়ে ফেলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
বুধবার সকালে জেলা শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের উচ্ছেদ করা কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ভোরে ছাত্রলীগ পরিচয়ে সাত থেকে আটজন তরুণ, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের টিনে ঘেরা প্রাচীরে দলীয় ব্যানার লাগিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং দলীয় নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ১২ টার দিকে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ওই কার্যালয়ে গিয়ে আবারও জাতীয় পতাকা ও দলীয় ব্যানার সরিয়ে ফেলেন। পরে তারা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়টির টিনের প্রাচীর ভেঙে ফেলেন।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যানার ও জাতীয় পতাকা লাগানোর ভিডিও থেকে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আন নাফে নাঈফ লুবধক, ছাত্রলীগ নেতা আশিক মিঞা টেমপিল, হান্নান সরকার, এমদাদুল হক এন্তা এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য মো. রাব্বী ইসলাম বাঁধন ভেঙে ফেলা কার্যালয়ের প্রাচীরে পতাকা ও ব্যানার লাগিয়ে স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, ব্যানার ও পতাকা সরিয়ে প্রাচীর ভাঙায় নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ ও সদস্য আলমগীর। তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ওই স্থানে গণ শৌচাগার নির্মাণের ঘোষণা দেন।
নাহিদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা হয়তো শুনেছিলেন প্রত্যেকটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলা হবে। আজ তারই অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার ও পতাকা টাঙানো হয়েছিল। এর আগেও আমরা কার্যালয়টি ভেঙে দিয়েছিলাম। কুড়িগ্রাম তো দূরের কথা বাংলাদেশে কোথাও আওয়ামী লীগের কার্যালয় থাকবে না। আমরা এখানে গণ শৌচাগার নির্মাণ করবো।’
জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা ও ব্যানার লাগানো নিয়ে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করেছে। তারা এতো বড় ঘোষণা শোনার পরও কোনো ভূমিকা পালন করে নি। আজকে তারা কীভাবে এ কর্মসূচি পালন করে। এসপিকে আমরা বিষয়টি বারবার জানিয়েছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয় নি।’
পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি বলেন, ‘পুলিশের অগোচরে আকস্মিক ঘটনাটি ঘটেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় যারা চালুর চেষ্টা করেছে তাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


