রাজধানীর বনানী থানায় জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেয়।
এদিন নিজ আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি তার পরিবারকে বার্তা দেন। এজলাসে আইনজীবীকে তিনি বলেন, ‘আমি ভালো আছি। মানসিকভাবে শক্ত রয়েছি। মনে থেকে উজ্জীবিত রয়েছি। আগে মন খারাপ থাকলেও এখন আর মন খারাপ হয় না। নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি।’
এই সংবাদ পলকের বাড়িতে পাঠানোর জন্য তার পক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে অনুরোধ করেন তিনি।
পলকের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো রয়েছেন এবং এই সংবাদ তার বাড়িতে জানাতে বলেছেন। তিনি (পলক) আরও জানান, জেলখানায় যে সুবিধা পাওয়ার কথা তা তিনি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই বিষয়ে পলক ভীত হলেও এখন সব কিছুতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।
এদিন এজলাসে ওঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে সাবেক এই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সব কিছুরই শেষ আছে।’ এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘সামনে তো নির্বাচন? আপনি কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন?’ এই কথা শুনে তিনি মাথা নাড়ান। এরপর আবারও পলক বলেন, ‘সব কিছুরই শেষ আছে।’
পরে পুলিশ তাদের সিএমএম আদালতের ৫ তলার এজলাসে নিয়ে যান। সেখানে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের মাথার হেলমেট এবং বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার বনানী থানাধীন মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন মো. শাহজাহান।
এ সময় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করেন। ভিকটিম শাহজাহান বুকে ও পেটে দুটি গুলিবিদ্ধ হন। চার দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় গত ১৮ ডিসেম্বর ভিকটিমের মা সাজেদা বনানী থানায় ৯৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।


