আবু সাঈদ-মুগ্ধ-আবরারদের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়ার আহ্বান নাহিদের

আবু সাঈদ-মুগ্ধ-আবরারদের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়ার আহ্বান নাহিদের
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন এসসিপি নেতারা। ছ্বি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

আবরার ফাহাদ থেকে আবু সাঈদ-মুগ্ধরা যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন সে বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক সংস্কারের পরে ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড বড় ঘটনা ছিল জাতীয় রাজনীতিতে। আবরারের মৃত্যু ও এর প্রতিবাদে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইটা আবার নতুন করে শুরু হয়েছিল।’

মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রায়ডাঙ্গা গ্রামের গোরস্থানে পৌঁছান নাহিদ ইসলাম ও দলের নেতারা তারা। সেখানে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন তারা। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

এ সময় তারা আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ও মা রোকেয়া খাতুনসহ স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন।

এরপর পদযাত্রায় যোগ দিতে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে পদযাত্রায় অংশগ্রহণ শেষে নেতৃবৃন্দ পাশ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার উদ্দেশে রওনা হন।

আরও পড়ুন

‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতারা। ছবি: টাইমস

জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার কুষ্টিয়া শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও পদযাত্রা করেন এসসিপির নেতারা।  এর আগে তারা সোমবার রাতে কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছান।

আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত ও মতবিনিময় কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সাইফুল্লাহ হায়দার, আসাদল্লাহ আল গালিব, আবু সাঈদ লিয়ন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদল্লাহ, মাহমুদা আলম মিতু, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও কেন্দ্রীয় সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে সংগঠনটির ক্যাডাররা। পরে রাতে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। দায়ের হয় হত্যা মামলা। ওই মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad