টানা চার ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠলেও ভাগ্য বদলাল না বাংলাদেশের। নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের ফাইনালে ভারতের কাছে হারল ৪৬ রানে। রোববার থাইল্যান্ডের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারতের দেয়া ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮৮ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের আসরেও ভারতের কাছে হেরে রানার আপ হয়েছিলেন লতা মন্ডলরা, এবারও একই রইল গল্পটা।
রান তাড়ায় নেমে এই ম্যাচেও ব্যর্থ হয়েছে টপ অর্ডার। ওপেনার ইশমা তানজিম ফিরেছেন ৩ রানে। শামীমা-শারমিন জুটি গড়লেও সেটা বেশি বড় হয়নি প্রেমা রাওয়াতের স্পিন জাদুতে। ৪ ওভার বল করে ১৩ রানে ৩ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। শুধু যে প্রেমা ভুগিয়েছেন এমনটাও না। তনুজা-রাধারাও সমানে দেখিয়েছেন স্পিন ভেলকি।
অবশ্য এই স্পিন ট্র্যাকে ১৩৫ রানে পাহাড়সম মনে হবে, সেটা আগে থেকেই ধারণা ছিল সবার। হলোও তাই। ভারতের স্পিনের জবাব ছিল না বাংলাদেশি ব্যাটারদের কাছে। ৪৮ রানে প্রথম চার উইকেট হারালেও পরের ছয় উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৪০ রানে। এই ব্যাখাতীত ব্যাটিং ধসই হয়ে রইল হারের মূল কারণ।
যদিও দুই সিনিয়র, লতা মন্ডল আর ফাহিমা খাতুন যেভাবে উইকেট দিয়ে এসেছেন, তাতে দেখে মনে হয়েছে, যেন রান তোলার তাড়ায় আছেন তারা। অবশ্য ম্যাচ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতা আর এপ্রোচের গলদেই ৮৮ রানে গুটিয়ে গিয়ে হিসেব মিলল না বাংলাদেশের।
পুরো টুর্নামেন্টে নিষ্প্রভ থাকলেও ফাইনালেই জ্বলে উঠল তেজাল হাসাবনিসের ব্যাট। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হাল তো ধরেছেনই, পঞ্চম উইকেটে রাধা যাদবের সাথে গড়েছেন ম্যাচের মোড় ঘোরানো ৬৯ রানের জুটি। পুরো টুর্নামেন্টে ফাইনালের আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ১৯, এবার দলের বিপদে একাই খেলেছেন ৩৪ বলে ৫১* রানের ইনিংস। উইকেটে শেষ পর্যন্ত থাকা এই ডানহাতি ব্যাটার তিন চারের সাথে মেরেছেন দুটি ছক্কাও। অধিনায়ক রাধার ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৩৬ রানের ইনিংস।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের স্পিনারদের জাদুতে ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত। অধিনায়ক ফাহিমা ৪ ওভারে ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন।


