জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমন অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, ‘ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করেছেন।’
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক একটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ মামলায় ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান। তিনি মামলাটিতে আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। তবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের শুনানির জন্য সময় চায় আসামিপক্ষ। পরে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২৩ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউটর পালোয়ান বলেন, শামীম ওসমানের একটি অডিও ক্লিপ ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনী তথা এ মামলার ১১ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠেন সাবেক এই এমপি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এ মামলায় ১৮টি ভিডিও ফুটেজ, অডিও প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালালিক নথিপত্র দাখিল করেছি। ৬১ জন চাক্ষুষ সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছি। এসব প্রমাণাদির ভিত্তিতে আমরা ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হব বলে মনে করি।’
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগ- ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।
এই তিন অভিযোগে ১২ আসামির বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
এ মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের সবাই পলাতক।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, চাষাড়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়।


