কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির ১১ দিনের মাথায় সেটি স্থগিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শুক্রবার বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
চলতি মাসের মাঝামাঝি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ১২ অক্টোবর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে ঘোষণা করেছে।’
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, কক্সবাজার রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মুর্তজা হোসেন সেই সময়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধা প্রস্তুত রয়েছে। কিছু কাজ বাকি থাকলেও অনুমোদন পাওয়ায় এ মাসেই ফ্লাইট শুরু হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
জেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমান রানওয়ে ৬ হাজার ৭৯০ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে বাড়ানো হয়েছে; প্রস্থও ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ওয়াইড-বডি বিমান চলাচলের উপযোগী করতে লোড ক্ষমতা ও লাইটিং সিস্টেম আপগ্রেড করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য ১০ হাজার ৯১২ দশমিক ৪৯ বর্গফুট ভবন এবং ৪৯ হাজার ৭৫৩ বর্গফুট সংযোগ ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে সেখানে।
বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে–ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।


