সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নে একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই সারা দেশে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে এবং এই ঐতিহাসিক কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শিগগিরই করা হবে। একই সঙ্গে খালের দুই পাশে সমন্বিতভাবে বনায়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, খাল খনন নিয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। বর্তমানে যে প্রকল্পগুলো চলছে, সেগুলোর একটি তিনি উদ্বোধন করেছেন এবং পরে তা বৃহৎ খাল খনন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
খালের পাড় সবুজায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে। শুধু খালের পাড় নয়, দেশের সব বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও খোলা স্থানে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত কম জায়গায় এত বেশি মানুষ বসবাস করে না। শিল্পায়ন ও নগরায়নের কারণে ফসলি জমি ও বনভূমি কমছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। খাল খনন, বনায়ন ও নারীর ক্ষমতায়নকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচির সুফল মানুষ পেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে খালগুলো নাব্যতা হারানোয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি কৃষিজমিতে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, সরকার কোনো দলীয় রাষ্ট্র গঠন করবে না; জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। নির্বাচিত হলে সরকারে থাকবে, না হলে থাকবে না, তবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে।
উদ্বোধন শেষে তথ্যমন্ত্রী গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া এলাকার ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


