রাজধানীর গাবতলী বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হরিরামপুর সর্বজনীন শ্মশানঘাটে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক দাহ চুল্লি (চেম্বার) উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
শনিবার বিকালে ডিএনসিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ চুল্লির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব এই বৈদ্যুতিক দাহ ব্যবস্থা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্য সম্পাদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে কম সময়ে, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এবং পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে মরদেহ দাহ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঠের সংকট ও আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হতো, তা অনেকাংশে কমে আসবে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের দেশ। এই বাংলাদেশ হিন্দুদের, মুসলমানদের, বৌদ্ধদের, খ্রিস্টানদের-সবার। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিবেচনার বিষয় নয়। আমরা চাই সবাই সমানভাবে রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করুক।’
তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে বিদ্যুতের মাধ্যমে দাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে এ স্থাপনার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য পৃথক কবরস্থানের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বিল মওকুফ, রান্নাঘর নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি উত্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসক বলেন, শিশুদের দাফনের জন্য জমির দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বিল মওকুফের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তিনি ডেসকো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সামনে ডেঙ্গুর উপদ্রব ও প্রকোপ বাড়বে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনে ওষুধের ডোজ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তদারকি বাড়ানো হয়েছে এবং নর্দমা ও খালসমূহ নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। তবে, শুধু একক প্রচেষ্টায় এটি নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন বিষয়।
তাই ঘরের ফুলের টব, আঙিনা কিংবা ওয়াশরুমে যেন ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে মা-বোনসহ নগরবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। একইসঙ্গে খালে বা যত্রতত্র প্লাস্টিক, গৃহস্থালি বর্জ্য ও আসবাবপত্র ফেলা থেকে বিরত থেকে ঢাকাকে মশক ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে জনসম্পৃক্ততা ও পাবলিক অ্যাওয়ারনেস বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজের পক্ষে সিটি করপোরেশন সবসময় আছে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে, অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সেবা ও নাগরিক সুবিধা সহজ করতে এখন থেকে সিটি কর্পোরেশনের ডেথ সার্টিফিকেট (মৃত্যু সনদ) এই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই সরাসরি প্রদান করা হবে, যার ফলে নাগরিকদের আর কষ্ট করে করপোরেশন কার্যালয়ে যেতে হবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, এই শ্মশানঘাটটি অনেক পুরাতন। বর্তমান সরকার দেশজুড়ে যে আধুনিকায়নের প্রবর্তন করেছে, এই বৈদ্যুতিক চেম্বার তারই একটি অনন্য অংশ।
প্রশাসক মিণ্টু ভাইয়ের হাত ধরে এলাকার রাস্তাঘাট, ঘাট ও বাজারের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সরকারের এই উন্নয়ন যাত্রাকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, আগে লাকড়ির মাধ্যমে সৎকার করতে গিয়ে বৃষ্টি-বাদলে নানা ভোগান্তি ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হতো, নতুন ইলেকট্রিক মেশিনের মাধ্যমে এখন কম খরচে ও সহজে সেই কষ্ট দূর হবে।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার বর্তমান সরকারের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ইতিবাচক দূরদর্শিতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, সরকার হিন্দুদের কল্যাণে কাজ করছে এবং মন্দিরের পুরোহিতদের জন্য ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি প্রশাসকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান।


