রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ (প্রশাসন-১ অধিশাখা) থেকে এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয় বুধবার।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ সচিব সুজিৎ দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ মে তারিখে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয়জন নবজাতক মৃত্যুবরণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমতাবস্থায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এক থেকে চার দিন বয়সী ছয় নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে মারা যায়। ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়টি নবজাতক ভর্তি ছিল।
আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
স্বজনরা জানিয়েছেন, রাতে শিশুরা সুস্থ ছিল, কিন্তু ভোরে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, কান্না ও অবস্থার অবনতি দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের বাঁচানো যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গুরুতর অবহেলা ও আইন লঙ্ঘন।
এর মধ্যে রয়েছে ডিউটিতে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্স ও স্টাফদের অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের অপর্যাপ্ত সুবিধা, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং অক্সিজেনের অভাবজনিত সাফোকেশনের মতো ঘটনা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি এসব অনিয়ম স্পষ্ট করে তুলেছে, যা ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস, প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্সের বিধান লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত হয়েছে।
তদন্তে এসব অনিয়ম স্পষ্ট হয়ে ওঠায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। গত ৪ জুন কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বাড়িয়ে ৯ জুন পর্যন্ত জবাব দেয়, কিন্তু তা সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রাপ্ত জবাব ও ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশের ১১(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।
লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকবে। তবে ভর্তি থাকা রোগীদের মানবিক বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হবে এবং অন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতালে স্থানান্তরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সহায়তা করবে।


