রাজধানী ঢাকার মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়ে ৩ জুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শনিবার জমা দেওয়ার কথা ছিল।
মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে শনিবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আজ প্রতিবেদন দিতে পারছি না। কমিটিকে আরও তিন দিন সময় দিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ৩ জুন জমা দেওয়া হবে।’
মন্ত্রী জানান, সে রাতে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা মায়েদের এবং যে মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, এখনো তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। মূলত সে কারণেই শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বক্তব্য নেওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক অনুসন্ধানে জেনেছি, এক মায়ের অনুরোধে দুই ঘন্টা এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেটা রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। ওই সময় কোনো আলাদা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না।’
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, তদন্তকারীরা হাসপাতালের সব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই তদন্ত করছে। তাদের অনুসন্ধানে ছয় নবজাতক মৃত্যুর পেছনে সব কারণই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান জানান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ওই নবজাতকদের যে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল, সেখানে নির্মাণত্রুটি পাওয়া গেছে।
নিহত শিশুদের পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এসির গ্যাস লিকেজে নবজাতকদের মৃত্যুর দাবি অস্বীকার করে।
গত বুধবার রাতে ওই শিশুদের ময়নাতদন্ত না করাতে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় এক শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।


