নতুন একটি মামলার শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছিল সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। একই দিন শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে এসেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
পলককে বহনকারী প্রিজনভ্যানটি দেখতেই সেটি লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন ইনকিলাবে মঞ্চের সদস্যরা।
সোমার দুপুরে ঢাকার মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে, গত ২৪ ডিসেম্বর জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মধ্য বাড্ডার ইউলুপ এলাকায় দুর্জয় আহম্মেদ নামে এক যুবককে হত্যাচেষ্টা মামলায় পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই মো. গোলাম কিবরিয়া খান। আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন গত বুধবার রেখেছিলেন।
তবে ওইদিন পলককে আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য শুনানির দিন রাখা হয় সোমবার। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন ঢাকার অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল।
মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে হাজির হন। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চান তিনি। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
শুনানি শেষে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সিএমএম আদালতের সামনে ছিলেন। জানতে পারেন, পলককে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এসময় পলককে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশ্যে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে বের হয়। সিএমএম আদালতের সামনে গাড়ি এলে ডিম নিক্ষেপ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়। এ অবস্থায় পলককে নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি কাশিমপুরের দিকে চলে যায়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০ জুলাই বাড্ডা থানার মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্ট অফিস গলির মাথায় রাস্তায় অবস্থানকালে দুর্জয় আহম্মেদের ওপর গুলি করা হয়। এতে তার দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মাথায় পেছনে আঘাত লেগে গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়। কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, পলকসহ ৯০ জনের নামে মামলা করেন দুর্জয়।


