পূর্বাচল উপশহরে রাজউকের প্লট বরাদ্দে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন, প্রতারণা করেছেন। শুধু তাই না, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কৃতও করেছেন।
বৃহস্পতিবার প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণার পর্যবেক্ষণে একথা বলেছেন ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘প্লট বরাদ্দ চেয়ে শেখ হাসিনা আবেদন করলেও কোনো এফিডেভিট দেননি। পরে রাজউক থেকে শেখ হাসিনার কাছে এফিডেভিট চাওয়া হয়। তিনি তখন সেটি দেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তার স্বামীর নামে আগে থেকে যে প্লট বরাদ্দ ছিল, তা উল্লেখ করেননি। এটা এক ধরনের প্রতারণা। তার স্বামী মো. ওয়াজেদ মিয়া একজন গ্রেটেস্ট সায়েনটিস্ট ছিলেন। তাকেও এই দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন।’
প্লট বরাদ্দের হলফনামায় কোনো আইনজীবী, নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেটের সই নেই উল্লেখ করে আদালত বলেছে, ‘এটি কেউ দেখাতে পারেনি। যা পুরোপুরি অনিয়ম। দুটি হলফনামা দেন শেখ হাসিনা। কিন্তু একটারও কোন ভ্যালু নেই। পরে আবার রাজউক থেকে সঠিক তথ্য চাওয়া হয়। এগুলো দুর্নীতি ও প্রতারণা। শেখ হাসিনা শুধু এখানেই ক্ষান্ত হননি। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে পুতুলকেও অনিয়ম করে প্লট দিয়েছেন।’
রায় ঘোষণার সময় বিচারক আরও বলেন, ‘কর্মকর্তা কর্মচারীদের শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমরা অন্যায় করলেও আমি তোমাদের পুরস্কৃত করব। রাজউক গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী সবকিছু জানা সত্ত্বেও বাধা দেননি। আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। দুর্নীতিবাজদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। কিন্তু যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়নি তারা চাকরি-জীবন নিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে।’
এ রায়ের মাধ্যমে প্রকৃতরা যেন প্লট বরাদ্দ পান, সে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
বিচারক বলেন, ‘শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ আছে। উনি বরাদ্দ না চাইলে কাগজ ছুড়ে ফেলতে পারতেন। প্লট না নিতে পারতেন। ওনার লিগ্যাল অ্যাডভাইজার, ল মিনিস্টার আছে। তাদের দিয়ে মানা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নেন। এক্ষেত্রে রাজউক, গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় ও শেখ হাসিনা অপরাধ করেছেন। শেখ হাসিনা প্রতারণা করেছেন।’
এসময় আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জন্যই এদেশে বিপ্লব হয়েছে। এসকল অনিয়ম সামনে এসেছে। এটি আপনাদের জন্যও শিক্ষা। ভবিষ্যতে আপনারাও কোন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়াবেন না। এটি আপনাদের নিকট আবেদন।’


