ভিয়েতনামের হ্যানয়ে সেই ৩-০ ব্যবধানের হারের তিক্ত স্মৃতি এখনো টাটকা। তবে সেই গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ দল। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়ার আগে আজ রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনুশীলন সেরে নিয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। সিঙ্গাপুরের কন্ডিশন আর মাঠের পরিবেশের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে গ্যালারির বাইরের আবহ। অনুশীলনের সময় মাঠের চারপাশে ভিড় জমানো প্রবাসী বাঙালিদের অকুণ্ঠ সমর্থন ফুটবলারদের জন্য যেন এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর পৌঁছানোর পর থেকেই ফুটবলাররা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আজ অনুশীলনে দেখা গেল অন্যরকম এক দৃশ্য। প্রিয় খেলোয়াড়দের একঝলক দেখতে মাঠের পাশে ভিড় করেছেন অনেক উৎসুক বাঙালি। সমর্থকদের এই সরব উপস্থিতি দলের পরিবেশকে বদলে দিয়েছে। অনুশীলনের ফাঁকে দলের মিডফিল্ড মায়েস্ট্রো শমিত শোম বলেন, ‘বিদেশে প্র্যাকটিসে এসে সব বাংলাদেশিদের এমন সমর্থন পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। এতে আমাদের বিরক্তি তো হয়ই না, বরং দলের সবার মুড লিফট করছে। এই ভালোবাসা আমাদের জয়ের জন্য বাড়তি মোটিভেশন দিচ্ছে।’
দলে নেই রাকিব, তপু, হৃদয় কিংবা কাজেমের মতো পারফর্মাররা। তবে খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ শমিত। তিনি বিশ্বাস করেন ‘নেক্সট ম্যান আপ’ দর্শনে। তাঁর মতে, ‘আমরা অবশ্যই রাকিব-তপুদের মিস করছি, কিন্তু ফুটবল কেবল ১১ জন খেলোয়াড়ের বিষয় নয়। এটি পুরো ২৩ বা ৩০ জনের স্কোয়াডের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। যে সুযোগ পাবে, তাকেই সেরাটা দিতে হবে। যেমন মিরাজ এই ক্যাম্পে শুরু থেকেই খুব ভালো করছে।’ মাঠের বাইরেও জুনিয়রদের গাইডেন্স দিয়ে একটি শক্তিশালী বন্ডিং তৈরির চেষ্টা করছেন এই বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
সহকারী কোচ হাসান আল মামুনের কণ্ঠেও শোনা গেল একই সুর। ভিয়েতনামে বাঙালির সংখ্যা কম থাকলেও সিঙ্গাপুরে দেশি সমর্থকদের চিৎকার ফুটবলারদের দেশের মাটির আমেজ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে থাকলেও এই পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে আমরা দেশেই আছি। এটা আমাদের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করবে।’ ভিয়েতনাম ম্যাচে সেট-পিসের যে ভুলগুলো হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে গত দুই দিন নিবিড় কাজ করেছে কোচিং স্টাফ। হাসান আল মামুনের মতে, ‘আমরা আমাদের সামর্থ্য জানি। সিঙ্গাপুরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমরা আমাদের আত্মসম্মান আর দেশের মর্যাদা নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই। অন্তত পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফেরাই আমাদের লক্ষ্য।’
৩১ মার্চের এই ম্যাচটি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বের শেষ লড়াই। চাপের কথা মাথায় না নিয়ে একটি গোছানো ও মোটিভেটেড টিম হিসেবে মাঠে নামতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।


