নতুন ঠিকানা সবকিছু বদলে দিতে পারে—আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের গল্পটাই তার প্রমাণ। ম্যানচেস্টার সিটিতে তিনি খারাপ খেলছিলেন না। কিন্তু আর্লিং হালান্ডের পেছনে থাকায় খেলার সুযোগ ছিল সীমিত। দলে জায়গা পেতে লড়াই করছিলেন, কিন্তু নিয়মিত সময় পাচ্ছিলেন না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জার্সি ধরে রাখার জন্য তাই নিয়ে নেন সাহসী সিদ্ধান্ত—সিটি ছাড়ার।
তিনি নাম লেখান আতলেটিকো মাদ্রিদে।
দিয়েগো সিমিওনের অধীনে খেলা মানেই কঠিন চ্যালেঞ্জ, কারণ ম্য্যানচেস্টার সিটিতে যেমন পোজেশন নির্ভর শৈল্পিক ফুটবল চলে সেখান থেকে এই আতলেটিকোর ধরণ অনেক আলাদা। শুরুতে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে দ্রুতই খাপ খাইয়ে নিয়েছেন আলভারেজ। একটু পরেই দেখা গেল, তিনি শুধু মানিয়ে নিচ্ছেন না—দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২০২৪/২৫ মৌসুম শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে দাঁড়িয়ে আলভারেজ এখন ফিরেও তাকাতে পারেন গর্ব নিয়ে। অক্টোবর, নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল—পাঁচ মাসে হয়েছেন ক্লাবের প্লেয়ার অব দ্য মান্থ। আর মৌসুমের শেষ পুরস্কারটিও তাঁর হাতেই—আতলেটিকো মাদ্রিদের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিজন’।
এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ২৯ গোল, করিয়েছেন আরও ৭টি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই এসেছে ৭ গোল—যেখানে নিজেকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করেছেন। একটা সময় যে ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই আলভারেজ এখন আতলেতিকোর ত্রাণকর্তা।
আতলেটিকোর মৌসুমটা ছিল ওঠানামায় ভরা। তবে আলভারেজ ছিলেন একমাত্র স্থিতিশীলতা। আক্রমণে দলের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন, দর্শকদের প্রিয়মুখে পরিণত হয়েছেন।
এই দলবদল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ফল দিয়েছে চমকপ্রদ সাফল্য। হুলিয়ান আলভারেজ প্রমাণ করেছেন, ছায়া থেকে বের হয়ে আলোর পথে হাঁটতে জানলে, জায়গা করে নেওয়া যায় সবচেয়ে বড় মঞ্চেও। এই বদলটা ছিল কেবল একটি ট্রান্সফার নয়—ছিল নিজের সামর্থ্য প্রমাণের জোরালো বার্তা।


