আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত ও পাঁচ জনের শরীরে উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিজ দেশের দুজন নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জাহাজটি পরিচালনা করে ওশানওয়াইড এক্সপেডিশন। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, জাহাজটি ২০ মার্চ আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের জাহাজটি আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। পথে এটি অ্যান্টার্কটিকা ও আরও কয়েকটি স্থানে যাত্রাবিরতি করে। বর্তমানে জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ ভার্দেতে অবস্থান করছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাহাজটি প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে রওনা হয়েছিল। ১০৭ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ এই পোলার ক্রুজ জাহাজটিতে ৮০টি কেবিনে ১৭০ জন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এতে ৫৭ জন ক্রু, ১৩ জন গাইড এবং একজন চিকিৎসক রয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফোস্টার মোহালে জানান, জাহাজটিতে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫০ জন পর্যটক ছিলেন। তিনি আরও জানান, মৃতদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৬৯ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন, যারা নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং দম্পতি ছিলেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার জ্বর, মাথাব্যথা, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় পৌঁছানোর পর তিনি মারা যান।
অপরদিকে, ওই নারী জাহাজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়া হলে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনাটি জাহাজেই ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, আরও দুই অসুস্থ যাত্রীকে কেপ ভার্দেতে হাসপাতালে আলাদা করে রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
পরবর্তীতে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে বলে জানা গেছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অসুস্থ যাত্রীদের চিকিৎসা, সরিয়ে নেওয়া, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জাহাজে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের সহায়তা দিচ্ছে।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা অন্যান্য দাঁতযুক্ত প্রাণীর মূত্র বা মলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায় এবং এটি গুরুতর শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে মানুষে মানুষেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানায়, এই রোগের শুরুতে ফ্লু বা সর্দিজ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীতে এটি হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমিত হতে পারে। এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ।
হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তাই এর চিকিৎসায় মূলত লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীকে ভেন্টিলেটরে রাখার প্রয়োজন হতে পারে।


