আজহারীর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে যৌন ওষুধ বিক্রি, ২ আসামি রিমান্ডে

আজহারীর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে যৌন ওষুধ বিক্রি, ২ আসামি রিমান্ডে
Advertisement
Advertisement

ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর নাম, ছবি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে পল্টন থানার সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক সামিম হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন মো. আব্দুর রহমান মানিক ওরফে রাহাত (২৮) এবং ফুরকান মিয়া (২২)। এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা আজহারীর ‘এআই জেনারেটেড’ ভিডিও এবং উন্নত গ্রাফিক ডিজাইন ব্যবহার করে ফেসবুকে একাধিক ভুয়া পেজ পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব পেজের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ‘আশ-শিফা অরগানিক ডট কম’সহ কয়েকটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কথিত ‘যৌন উত্তেজক’ ওষুধ বিক্রি করতেন। প্রকৃতপক্ষে তারা আজহারীর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে প্রতারণার একটি সুসংবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন।

গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিকে অবস্থানকালে আজহারী লক্ষ্য করেন, বেশ কিছু ফেসবুক আইডি ও ওয়েবসাইট তার ছদ্মবেশ ধারণ করে মিথ্যা প্রোমোশনাল ভিডিও প্রচার করছে। ভিডিওগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তার হুবহু কণ্ঠ ও ছবি বসানো হয়েছে, যা দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে নিম্নমানের ওষুধ ও পণ্য কিনতে প্রলুব্ধ হচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে এসব পণ্য বা প্রচারণার সঙ্গে আজহারী বা তার পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। ভুয়া প্রচারণা বন্ধে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া, আজহারী তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকেও অনুসারীদের সতর্ক করেন। পরবর্তীতে তার অফিস সহকারী বিল্লাল হোসেন গত মাসের ২৩ তারিখ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছিল। এই চক্রটি দেশব্যাপী সক্রিয় এবং তারা ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য ডলারের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করত। এসব যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরিতে আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ডলারের উৎস খুঁজে বের করা। অর্থ লেনদেনের বণ্টন প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

গত ৫ মে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ১০ আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪), মো. শাফায়েত হোসেন শুভ। বাকি আটজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

কারাগারে যাওয়া আট আসামি হলেন (২১), শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) এবং মো. ইমরান (২৪)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই চক্রটি পরিচালনা করতেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad