আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত
বৈঠকের পর উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: পিআইডি
Advertisement
Advertisement

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে শনিবার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী কর্মদিবসে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

শনিবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জরুরি বৈঠকে বসেন উপদেষ্টারা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার রাতে যমুনায় জরুরি বৈঠকে বসেন উপদেষ্টারা। ছবি: সংগৃহীত

বৈঠকের পর উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কোনও রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।’

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেস-সহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।’

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

এর আগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে সরকার জাতিসংঘের প্রতিবেদন বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শনিবার দুপুর তিনটার পর থেকে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচির মাধ্যমে গণজমায়েত শুরু হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী ছাত্রশিবির, প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশসহ (আপ বাংলাদেশ) বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ মোড়ে জমায়েত হয়। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেখানে একাধিক সংগঠনের নেতারা একে একে প্রতিবাদে সমাবেশে বক্তব্য দেন। তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে নেতা-কর্মীরা গণজমায়েত করেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে এনসিপির ডাকে যমুনা এলাকায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান চলে এবং পরদিন দুপুরে তা মিন্টো রোডে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে ইসলামপন্থী দল ও ছাত্রসংগঠন এবং জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মগুলোর নেতারা বক্তব্য দেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি শনিবার দুপুর তিনটার গণজমায়েতের ঘোষণাও দেন। একই সঙ্গে তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকার বাইরে কোনো মহাসড়কে ব্লকেড না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলার নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেন।

উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে রাতের মধ্যেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হলে শনিবার রাতে ফের তিনি যমুনা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন। তবে রাত এগারোটায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণা আসলে আন্দোলনকারীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। তারা শাহবাগ ও আশেপাশের এলাকায় মিছিল নিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘুরতে থাকেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad