আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন মেহজাবীন

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন মেহজাবীন
Advertisement
Advertisement

রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে খবর আসে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে করা এক মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–৩-এর বিচারক আফরোজা হক তানিয়া এই আদেশ দেন। খবরটি জানাজানি হতেই মেহজাবীন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছেন ১৮ ডিসেম্বর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী আমিরুল ইসলামের সঙ্গে মেহজাবীনের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে তিনি মেহজাবীনের নতুন পারিবারিক ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার জন্য ২৭ লাখ টাকা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা শুরু করেননি। বাদী টাকা চাইলে তারা সময়ক্ষেপণ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে মেহজাবীন ও আলিসান তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেহজাবীন, আলিসান এবং আরও ৪–৫ জনের অকথ্য গালাগালি ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েন। পরে ভাটারা থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় এবং তিনি ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

টাইমস অব বাংলাদেশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহজাবীন হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বক্তব্য পাঠান। তিনি জানান, অনলাইনে সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার আইনজীবীকে জানান। আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পরিচয় ব্যবহার করে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন—এ পর্যন্তই তার কাছে স্পষ্ট।

মেহজাবীনের দাবি, মামলার বাদী ও তার আইনজীবীর বর্তমান অবস্থান জানা যাচ্ছে না। তাদের নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, তিনি মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। দেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেই তিনি জামিন আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন

ফেসবুকে এ বিষয়ে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেহজাবীন আরও জানান, মার্চে মামলা হলেও গত নয় মাসে তিনি কোনো নোটিশ, ফোনকল বা কাগজপত্র পাননি, কারণ অভিযোগকারী সঠিক তথ্য জমা দেননি। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তিনি কখনো কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন করেননি, কোনো যোগাযোগের বার্তাও নেই। এমনকি তার সম্পূর্ণ পরিচয়পত্রও জমা নেই। ২৭ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি থাকলেও কোনো ব্যাংক লেনদেন, চেক, বিকাশ রেকর্ড বা চুক্তিপত্র দেখাতে পারেননি বাদী। ১১ ফেব্রুয়ারির ঘটনারও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা সাক্ষী নেই, যদিও হাতিরঝিল সবচেয়ে নজরদারির এলাকাগুলোর একটি।

মামলার বাদী আমিরুল ইসলামের ০১৪ সিরিজের নম্বরে যোগাযোগ করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তারা এমন ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়েছিল যেখানে মেহজাবীন থাকেন না। সেক্ষেত্রে কীভাবে তিনি নোটিশ পাবেন?”
মানহানির মামলা করবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগে এ মামলার নিষ্পত্তি হোক। মামলার দায় থেকে মুক্ত হওয়ার পর আমার মক্কেল সিদ্ধান্ত নেবেন।”

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad