জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকিমূলক অভিযানে বাধা দেওয়া ও মার্কেট বন্ধের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এ দাবিতে সংগঠনটি বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে।
রোববার ক্যাবের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামানের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তদারকি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল রাজধানীর চকবাজারের মৌলভীবাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে দেখা গেছে, মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা পণ্য ক্রয়ের মূল্য বেশি হওয়ার দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো বৈধ ক্রয়সংক্রান্ত ক্যাশ মেমো প্রদর্শন করতে পারেননি। বরং তারা স্বীকার করেন, পণ্য বাকিতে ক্রয় করে বিক্রির পর মূল্য পরিশোধের সময় ক্যাশ মেমো দেওয়া হয়—যা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পরিপন্থি।
এ অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে আইনটির ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো প্রকাশ্যে জরিমানা পরিশোধ না করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করে হইচই সৃষ্টি, দোকানপাট বন্ধের হুমকি এবং সরকারি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেছে ক্যাব।
ক্যাব মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে।
স্মারকলিপিতে ক্যাব পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযানে বাধা ও মার্কেট বন্ধের হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; বাজার তদারকি অভিযানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নিশ্চিত করা; ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর প্রয়োগ; পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে বৈধ ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ ও প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং সারা দেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম জোরদার করা।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এদিকে রবিবার একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেছে ক্যাব। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাজার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়া মানে সরাসরি ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা।


