দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ পারাপার রোধে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথগুলো চিহ্নিত করে দিন ও রাতে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে। অরক্ষিত ও সংবেদনশীল স্থানগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি নাইট ভিশন গগলস, ড্রোন এবং বাইনোকুলারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এ ছাড়া, সীমান্তকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ দালালচক্র এবং অবৈধ পারাপারে সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং গণসংযোগ করা হচ্ছে। যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি বা অনুপ্রবেশের ঘটনা দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট সতর্কতামূলক দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া, রাতে সীমান্তের কাছাকাছি সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখতে ও সতর্ক করতে বাঁশি ও টর্চ লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, অবৈধ পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। পুশইন বা যেকোনো অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়ামাত্র বিজিবিকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মাদক, অস্ত্র পাচার এবং চোরাচালান রোধে বিজিবির এই সমন্বিত নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


