রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান মামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া, মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) রাজধানী থেকে শহীদ খানকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে মামলার বাদী দেখতে পান, বেশকিছু লোক রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য দিচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই গোল টেবিল বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদেরসহ আরও ৭০-৮০ জন অংশগ্রহণ করেন। পরে পুলিশ আসামিদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম ২৯ আগস্ট বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।


