চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫ বিলিয়নের বেশি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মার্কিন মুদ্রার বিনিময় হার ধরে রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকেই ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ দশমিক ৩ টাকা দরে আরও ১৪৫ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। সব মিলয়ে চলতি অর্থবছরের সাড়ে সাত মাসে ৫ দশমিক শূন্য ৪৪ বিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক; চলতি বিনিময় হারে যা ৬১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সর্বশেষ এই লেনদেনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ কমে আসা ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে মার্কিন ডলার কিনছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সরবরাহ বেশি থাকা ও চাহিদা কম থাকায় ডলারের দর যাতে পড়ে না যায় সেজন্যই ডলার কেনা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তখন যাতে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির জন্য পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ করা যায় সেজন্য ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভ শক্তিশালী করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে দেশের মোট রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ওপরে আছে; বিপিএম৬ হিসাবে যা ২৯ দমমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
চলতি অর্থবছরে এসে ডলার ক্রয় করলেও আগের পাঁচ বছরে বিপুল অঙ্কের ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানির ব্যয় মেটাতে ২০২০–২১ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছিল সংস্থাটি।


