যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা 

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা 
‘বাল্ড রেঞ্জ’ দাবানলের কারণে পার্শ্ববর্তী পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল ও কানাডার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে ওকানাগান লেকের আশপাশের এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন এলাকায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনটি দাবানল জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। রোববারও দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের সীমারেখার আশপাশে আগুনের অবশিষ্ট অংশ নেভানোর কাজ চালিয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহ ধরে জ্বলছে তিনটি দাবানল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা তিনটি দাবানলের একটিও রোববার নতুন করে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে আগুনে এরই মধ্যে প্রায় ৯২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এলাকার সবচেয়ে বড় দাবানলটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানোর অভিযোগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগুনের ঝুঁকি থাকায় গত শনিবার স্পোকেনের প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত মালডেনের বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রোববার সেই নির্দেশ কিছুটা শিথিল করে প্রয়োজন হলে দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।

মালডেনের পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জন গয়কে বলেন, ‘বাতাস এখন তুলনামূলক শান্ত এবং আগুনও এগোচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে বাসিন্দাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।’

আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে শহরের বাসিন্দাদের পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশের রোজালিয়া শহর থেকেও ফায়ার সার্ভিসের জন্য পানি আনা হচ্ছে।

এর আগে ২০২০ সালের ভয়াবহ দাবানলে মালডেন শহরের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়। সে সময় শহরের ফায়ার স্টেশন, ডাকঘর, সিটি হল ও গ্রন্থাগার ধ্বংস হয়েছিল।

আরও পড়ুন

ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় দাবানলের ভয়াবহতায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।

আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি সামারল্যান্ড। প্রায় ১২ হাজার মানুষের এই শহর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রোববার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানায়, ওকানাগান লেক এলাকায় দাবানল থেকে পালানোর সময় ৮০ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম শনাক্ত হওয়া ‘বাল্ড রেঞ্জ’ দাবানলের কারণে পার্শ্ববর্তী পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় আট হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত পর্যন্ত দাবানলটি ১০ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতির পর শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষদের আশ্রয় ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা ও কমিউনিটি রেজিলিয়েন্সবিষয়ক মন্ত্রী এলিনর ওলশেভস্কি।

আগুন নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত দুই

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যেও দাবানল মোকাবিলায় গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই হেলিকপ্টার পাইলট। শুক্রবার সকালে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে দাবানল নেভানোর সময় তাদের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় আগুনের তীব্রতার কারণে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। শনিবার সেখানে পৌঁছে দুই পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সেভিয়ার কাউন্টির শেরিফ নাথান কার্টিস জানান, উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় দুর্ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন। একই সঙ্গে কাছাকাছি সক্রিয় দাবানলও তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর