রাজধানীর মহাখালীতে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার বিউটি আক্তারকে (২৯) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এ আদেশ দেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন জানান, শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. তারেক হাসান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিউটি আক্তারকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত মামুন মিয়া (৩০) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সা মালিহাটি গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার বিউটি আক্তার একই জেলার গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে ননদ সাইদা আক্তার লাকীর মাধ্যমে মামুনের সঙ্গে বিউটি আক্তারের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শুক্রবার চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকা এসে বনানীর মহাখালী টিবি গেট পূর্বপাড়া এলাকার একটি বাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন।
এজাহার অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১১টার দিকে মামুন সেখানে গেলে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন বিউটি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে ধারালো ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন তিনি। পরে তার পেটেও একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামুনের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ঘটনার পর রোববার মামুনের চাচা বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিউটি আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় তিনি নিজেও সামান্য আহত হন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।


