দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএনপি। নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় ৫৯ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সাংগঠনিক বিভাগওয়ারী বহিষ্কৃতদের তালিকা:
রংপুর বিভাগ: এই বিভাগে বহিষ্কৃত হয়েছেন দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।
রাজশাহী বিভাগ: নওগাঁ-৩ আসন থেকে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবং নাটোর-১ আসন থেকে সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই আসনের ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট পর আবেদন জমা দিলেও তা গৃহীত না হওয়ায় তাকেও বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া নাটোর-৩ এর দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ এর ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ এর কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ এর জাকারিয়া পিন্টু বহিষ্কারের তালিকায় রয়েছেন।
খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়া-১ আসনের নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ এর জেলা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ এর অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ এর ডা. শহীদুল আলম এবং বাগেরহাট-১ ও ৪ আসন থেকে যথাক্রমে ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ ও খায়রুজ্জামান শিপনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বরিশাল ও ঢাকা বিভাগ: বরিশাল-১ থেকে আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ থেকে মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ এর মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ এর মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ এর অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ এর অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ এর অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, নরসিংদী-৫ এর মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী এবং মুন্সিগঞ্জ-১ ও ৩ আসন থেকে মো. মুমিন আলী ও মো. মহিউদ্দিন।
ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ: ময়মনসিংহ বিভাগে কিশোরগঞ্জ-১ এর রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ এর শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ এর সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ এর এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ এর মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোনা-৩ এর মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং শেরপুর-৩ এর মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ বহিষ্কৃত হয়েছেন। ফরিদপুর বিভাগে মাদারীপুর-১ থেকে লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারীপুর-২ এর মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ এর নাসিরুল হক সাবু এবং গোপালগঞ্জ-২ ও ৩ আসন থেকে যথাক্রমে এম এস খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগ: সিলেট বিভাগে বহিষ্কৃত হয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ এর আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ এর দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ এর মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪ এর মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ এর শেখ সুজাত মিয়া। কুমিল্লা বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এর অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এর কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এর কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ এর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ এর আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ এর এম এ হান্নান বহিষ্কৃত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে বহিষ্কৃত হয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ এর অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ এর লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, নোয়াখালী-২ এর কাজী মফিজুর রহমান এবং নোয়াখালী-৬ এর সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম ও ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব।


