১১ মাসের সামরিক অভিযান শেষে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ দেশে ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই যুদ্ধজাহাজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ ঘাঁটিতে ফেরে।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ।
অত্যাধুনিক জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে আরও দুটি ডেস্ট্রয়ার- ইউএসএস বেইনব্রিজ ও ইউএসএস মাহান স্থানীয় সময় শনিবার নরফোক নৌঘাঁটিতে ভিড়েছে। জাহাজগুলোতে দায়িত্বরত প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও নৌ সেনা ১১ মাস পর প্রথমবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
অভিযানের সময় যুদ্ধক্ষেত্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানা দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয় জেরাল্ড আর ফোর্ডের নাবিকদের। ইরান যুদ্ধ ছাড়াও ভিন্ন এক আগুনের ঘটনায় শত শত নাবিকের থাকার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মেরামতের জন্য জাহাজটিকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়।
রণতরীগুলো ঘাঁটিতে নোঙ্গর করার সময় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি ইউএসএস বেইনব্রিজে থাকা নাবিকদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনারা শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, ইতিহাস তৈরি করেছেন। আপনারা পুরো জাতিকে গর্বিত করেছেন।’
পরে তিনি ‘ইউএসএস মাহান’ ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের’ নাবিকদের সঙ্গেও কথা বলেন।
ইরান যুদ্ধের সময় অসাধারণ দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ও এর সঙ্গে থাকা জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক ইউনিট সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিট সাইটেশন’-এ ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, মোট ৩২৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছে ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’। গত ৫০ বছরে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য এটিই সর্বোচ্চ অভিযানে মোতায়েন থাকা। ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের আগের রেকর্ডও ভেঙেছে এই অভিযান। এর আগে ১৯৭৩ সালে ‘ইউএসএস মিডওয়ে’ ৩৩২ দিন এবং ১৯৬৫ সালে ‘ইউএসএস কোরাল সি’ ৩২৯ দিন সমুদ্রে মোতায়েন ছিল।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মানসিক ও পারিবারিক জীবনে প্রভাব পড়া এবং যুদ্ধজাহাজটির যান্ত্রিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক শয্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রণতরীর সরঞ্জামেও চাপ পড়ে।
গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়ার ঘাঁটি থেকেই যাত্রা শুরু করে জেরাল্ড আর ফোর্ড। প্রথমে এটি ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ছিল। পরে অক্টোবরে এটিকে ভেনেজুয়েলার সমুদ্রসীমার কাছাকাছি ক্যারিবীয় সাগরে পাঠানো হয়।
জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোকে আটক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দেয়। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এটি ভূমধ্যসাগর থেকেই যুদ্ধের প্রাথমিক অভিযানে অংশ নেয়। পরে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে মার্চের শুরুতে লোহিত সাগরে প্রবেশ করে।


