ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ বাড়ানো, বাণিজ্য বাধা কমানো এবং নতুন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী নেতারা।
মঙ্গলবার ঢাকায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সঙ্গে ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে সিআইআই ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের বড় বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বাড়িয়ে এই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব।
তিনি বলেন, সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিটুবি সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করা।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দুই দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে সিআইআইয়ের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়কে আলাদা রেখে ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বৈঠকে সিআইআই বাংলাদেশে অবকাঠামো বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেয়।
এর একটি অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নিয়ে কাজ করবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি স্টোরেজ, ডেটা সেন্টার ও সোলার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।
ইনফ্রাভিশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিনায়ক চ্যাটার্জি বলেন, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা এখন প্রচলিত খাতের বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ব্যবসার প্রকৃত সমস্যাগুলো উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই এফবিসিসিআই ও সিআইআইয়ের মতো সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।


