নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬–এ পৌঁছেছে। এখনো প্রায় ২ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
নেপালে চতুর্থ দিনের মতো চলছে উদ্ধার অভিযান। বুধবার আঘাত হানা দুর্যোগের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র শুক্রবার দেশটির সীমান্তের ভেতরে নিখোঁজ মানুষের মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯২৪ জন বলে জানিয়েছে।
চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া শনিবার ভোরে জানিয়েছে, তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সে হিসাবে দুই অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ২ হাজার ৪৭৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সংখ্যাটা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় এক হাজারেরও বেশি।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শুক্রবার জানায়, এখনো ৫১৭ জন বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি কর্মীও থাকতে পারেন। অন্যদিকে চীনা কর্মকর্তারা শুক্রবার জানান, সেখানে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা ২৬০। সে হিসাবে দুই অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ৭৭৭ জন বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ১২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই অঞ্চলের বাসিন্দা ও বিদেশি কর্মীসহ দুর্যোগে মোট কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ জমে যে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, সেটির পানির স্তর আবার বাড়ছে। এতে নতুন করে কাদাধস বা ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার প্রধান স্থলসীমান্ত গিরং বন্দরের আশপাশে উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী কমান্ড দল ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। পাহাড়ের ঢাল পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কাছাকাছি এলাকায় কর্মরত উদ্ধারকারীদের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগাম সতর্ক করা যাবে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকার স্বল্প সময়টুকু কাজে লাগিয়ে জীবিতদের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কটি আবার চালু করার কাজও চলছে।


