নীলফামারীতে তিন সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সংকট

নীলফামারীতে তিন সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সংকট
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

নীলফামারীতে টানা তিন সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় জেলার অধিকাংশ তেল পাম্প কার্যত বন্ধ রয়েছে। কোথাও সীমিত পরিমাণ তেল এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্রাহকেরা কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।

সোমবার জেলা শহরসহ ডোমার, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। যেসব পাম্পে অল্প পরিমাণ তেল এসেছে, সেখানে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন পড়েছে। অনেকেই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জ্বালানি সংকটের সুযোগে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। হাটবাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি মূল্যের প্রায় তিন গুণ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও পাম্প মালিক সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী জানিয়েছেন, প্রতিদিন তেলের জন্য পাম্পে লাইনে দাঁড়াতে হয়, কিন্তু অনেক সময় তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খুচরা দোকান থেকে তেল কিনতে হয়।

কৃষি খাতেও প্রভাব পড়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল ও অকটেনচালিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

আরও পড়ুন

ডোমার উপজেলার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই সময়ে সেচ না দিলে ধানের ক্ষতি হবে, কিন্তু তেল না পাওয়ায় জমিতে পানি দিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।’

পরিবহন খাতেও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ইসাহাক আলী নামের এক গাড়িচালক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তেলের সংকট চলছে। ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছি না, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

পাম্প মালিকরা দাবি করছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখেননি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত বা বেশি দামে বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীলফামারী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, ’সরকারি মূল্যের বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি আইনত দণ্ডনীয়। আমরা অভিযান চালাচ্ছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

ভুক্তভোগীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে। কারণ, সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর