তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
ছবি: এক্স
Advertisement
Advertisement

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর শিরোপা জিতেছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স দেখালেও শেষ পর্যন্ত দলের হার ঠেকাতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথমার্ধেও (১০৫ মিনিট) কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। অবশেষে ১০৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেররান তোরেস। ডান পাশ থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড পাসে বাম পায়ের শটে গোল করেন তোরেস। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ২৫তম গোল।

এর আগে, ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ালেও তার আগে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিকে ফাউল করায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ১১৩ মিনিটে তোরেস আবারও বল জালে পাঠালেও বল রিসিভের সময় অফসাইডে থাকায় সেটিও বাতিল হয়।

পুরো ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ম্যাচে তিনি মোট ১১টি শট সেভ করেন, যা বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড।

ম্যাচের ৯৩ মিনিটে পেদ্রির ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের কাছ থেকে নেওয়া হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন মার্তিনেজ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও তিনি ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছিলেন, যার মধ্যে শেষ মুহূর্তে লামিন ইয়ামালের ফ্রি কিক ও আয়মেরিক লাপোর্তের হেড উল্লেখযোগ্য। বিপরীতে আর্জেন্টিনা নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ (১০৫ মিনিট) পর্যন্ত গোলের জন্য কোনো শটই নিতে পারেনি। ম্যাচের ১১৯ মিনিটে লিওনেল মেসির পাসে নাহুয়েল মোলিনা ক্রস করলেও স্পেনের রক্ষণভাগ তা ক্লিয়ার করে। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে কর্নার থেকে জুলিয়ানো সিমিওনে সুযোগ পেলেও তার ডান পায়ের ভলি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

আরও পড়ুন

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ ফুটবলার। এর আগে প্রথমার্ধে কোনো শট নিতে না পারায় ১৯৬৬ সালের পর রেকর্ড সংরক্ষণের ইতিহাসে ফাইনালের প্রথমার্ধে শটহীন থাকা দ্বিতীয় দল হওয়ার বিব্রতকর কীর্তি গড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে স্পেনের বলের দখল ছিল ৬৮ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার ৩২ শতাংশ। ৪৪ মিনিটে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ চোটের কারণে মাঠ ছাড়লে তার জায়গায় আসেন নিকোলাস ওটামেন্ডি।

অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ানোর পর দুই দলই অতিরিক্ত বদলি খেলোয়াড় নামানোর সুযোগ পায়। আর্জেন্টিনা দলে হুলিয়ান আলভারেজের জায়গায় মাঠে নামেন মার্কো সেনেসি। এর আগে, নির্ধারিত সময়ে স্কালোনি লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা, জুলিয়ানো সিমিওনে ও ফাকুন্দো মেদিনাকে মাঠে নামিয়েছিলেন। মাঠে নামার ৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখা পারেদেস ৬০ মিনিটে স্পেনের পেদ্রো পোরোকে ফাউল করলে ফ্রি কিক পেয়েছিল স্পেন।

অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিকে দলনেতা রদ্রি ও আয়মেরিক লাপোর্তেকে তুলে এরিক গার্সিয়া ও মার্টিন জুবিমেন্ডিকে নামায় স্পেন। এর আগে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস স্পেনের আক্রমণে গতি বাড়ান।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে ফিফার আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad